🔴 ব্রেকিং:
🔴নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার নিয়ে উত্তেজনা ; গণপিটুনিতে নিহত ২🌐মানিকগঞ্জে ডামট্রাক পিকআপ সংঘর্ষে চালক নিহত 🌐সিংগাইরের জামশায় ভাতিজার ছুঁড়া ইটের আঘাতে চাচার মৃত্যুর অভিযোগ 🌐ঢাকার নবাবগঞ্জে শিক্ষিকার আত্মহত্যা🌐

আজকের দিন-তারিখ:

📍 ঢাকা

যাকাত দিবেন কাকে ; কে পাবে যাকাত?



সম্পাদকীয়: যাকাত প্রদানের ৮টি খাত।
নিম্নে প্রত্যেকটি খাত আলাদাভাবে আলোচনা করা হল-

(১) ফকীরঃ
========
নিঃসম্বল ভিক্ষাপ্রার্থী। যাকে আল্লাহ তা‘আলা যাকাতের
৮টি খাতের প্রথমেই উল্লেখ করেছেন।
ফকির এমন ব্যক্তিকে বলা হয়, যে নিজের জীবিকার ব্যাপারে অন্যের মুখাপেক্ষী। কোন শারীরিক ত্রুটি বা বার্ধ্যক্যজনিত কারণে কেউ স্থায়ীভাবে অন্যের সাহায্যের মুখাপেক্ষী হয়ে পড়েছে অথবা কোন সাময়িক কারণে আপাতত কোন ব্যক্তি অন্যের সাহায্যের মুখাপেক্ষী হয়ে পড়েছে এবং সাহায্য সহায়তা পেলে আবার নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে, এ পর্যায়ের সব ধরনের অভাবী লোকের জন্য
সাধারণভাবে এ শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যেমন এতীম শিশু, বিধবা নারী, উপার্জনহীন বেকার এবং এমন সব লোক যারা সাময়িক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিনিয়ত দারিদ্র্য থেকে আল্লাহর নিকটে
আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। তিনি বলতেন,
ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺇِﻧِّﻲْ ﺃَﻋُﻮْﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻜُﻔْﺮِ ﻭَﺍﻟْﻔَﻘْﺮِ ‘ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট
কুফরী ও দারিদ্র্য থেকে আশ্রয় চাচ্ছি’।
অতঃএব ফকীর যাকাতের
মাল পাওয়ার হকদার।
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
ﺇِﻥْ ﺗُﺒْﺪُﻭْﺍ ﺍﻟﺼَّﺪَﻗَﺎﺕِ ﻓَﻨِﻌِﻤَّﺎ ﻫِﻲَ ﻭَﺇِﻥْ ﺗُﺨْﻔُﻮْﻫَﺎ ﻭَﺗُﺆْﺗُﻮْﻫَﺎ ﺍﻟْﻔُﻘَﺮَﺍﺀَ ﻓَﻬُﻮَ ﺧَﻴْﺮٌ ﻟَﻜُﻢْ
তোমরা যদি প্রকাশ্যে ছাদাক্বাহ প্রদান কর তবে উহা ভাল;
আর যদি তা গোপনে কর এবং দরিদ্রদেরকে দাও তা তোমাদের জন্য আরো ভাল’ (বাক্বারাহ ২/২৭১)।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻠﻪَ ﺍﻓْﺘَﺮَﺽَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺻَﺪَﻗَﺔً ﻓِﻲْ ﺃَﻣْﻮَﺍﻟِﻬِﻢْ، ﺗُﺆْﺧَﺬُ ﻣِﻦْ ﺃَﻏْﻨِﻴَﺎﺋِﻬِﻢْ ﻭَﺗُﺮَﺩُّ ﻋَﻠَﻰ
ﻓُﻘَﺮَﺍﺋِﻬِﻢْ
আল্লাহ তা‘আলা তাদের উপর তাদের সম্পদে ছাদাক্বাহ্
(যাকাত) ফরয করেছেন। যেটা তাদের ধনীদের নিকট থেকে গৃহীত
হবে আর তাদের দরিদ্রের মাঝে বণ্টন হবে’।

(২) মিসকীনঃ
=========
যাকাত প্রদানের ৮টি খাতের মধ্যে দ্বিতীয় খাত হিসাবে
আল্লাহ তা‘আলা মিসকীনকে উল্লেখ করেছেন। আর মিসকীন হল ঐ
ব্যক্তি যে নিজের প্রয়োজন মিটাতেও পারে না, মুখ ফুটে চাইতেও
পারে না। বাহ্যিকভাবে তাকে সচ্ছল বলেই মনে হয়।

মিসকীন শব্দের মধ্যে দ্বীনতা, দুর্ভাগ্য পীড়িত অভাব, অসহায়তা ও লাঞ্ছনা অর্থ নিহিত রয়েছে। এদিক দিয়ে বিচার করলে সাধারণ অভাবীদের চাইতে যাদের অবস্থা বেশী খারাপ তারাই মিসকীন। নবী (সা.)
এ শব্দটির ব্যাখ্যা করে বিশেষ করে এমন সব লোকদেরকে সাহায্য লাভের অধিকারী গণ্য করেছেন, যারা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী উপায়-উপকরণ লাভ করতে পারেনি, ফলে অত্যন্ত অভাব ও দারিদ্রের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। কিন্তু তাদের পদমর্যাদা সচেতনতা কারোর সামনে তাদের হাত পাতার অনুমতি দেয় না। আবার তাদের বাহ্যিক অবস্থাও এমন নয় যে, কেউ তাদেরকে দেখে অভাবী মনে করবে এবং সাহায্য করার জন্য হাত বাড়িয়ে দিবে। হাদীসে এভাবে এর ব্যাখ্যা করা হয়েছেঃ
---------------------------

যে ব্যক্তি নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ-সম্পদ পায় না, যাকে সাহায্য করার জন্য চিহ্নিত করা যায় না এবং যে নিজে দাঁড়িয়ে কারোর কাছে সাহায্যও চায় না, সে-ই মিসকীন” অর্থাৎ সে একজন সম্ভ্রান্ত ও ভদ্র গরীব মানুষ।

হাদীছেএএসেছে
আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এমন ব্যক্তি মিসকীন নয় যে এক
মুঠো-দু’মুঠো খাবারের জন্য বা দুই একটি খেজুরের জন্য মানুষের
দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ায় এবং তাকে তা দেওয়া হলে ফিরে আসে।
বরং প্রকৃত মিসকীন হল সেই ব্যক্তি যার প্রয়োজন পূরণ করার মত
যথেষ্ট সঙ্গতী নেই।
অথচ তাকে চেনাও যায় না যাতে লোকে তাকে
ছাদাক্বাহ্ করতে পারে এবং সে নিজেও মানুষের নিকট কিছু চায়
না।

(৩) যাকাত আদায়কারী ও হেফাযতকারীঃ
==========================
আল্লাহ তা‘আলা যাকাত প্রদানের তৃতীয় খাত হিসাবে ঐ
ব্যক্তিকে উল্লেখ করেছেন, যে ব্যক্তি যাকাত আদায়, হেফাযত ও
বণ্টনের কাজে নিয়োজিত। অতএব উক্ত ব্যক্তি সম্পদশালী হলেও সে
চাইলে যাকাতের অংশ গ্রহণ করতে পারবে।

(৪)ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য যাকাত প্রদান করাঃ
================================================
ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে অথবা কোন অনিষ্ট বা
কাফেরের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়ার লক্ষ্যে
যাকাতের অর্থ প্রদান করা যায়।



(৫) দাস মুক্তির জন্যঃ
==============
যারা লিখিত কোন চুক্তির বিনিময়ে দাসে পরিণত হয়েছে। তাদেরকে
মালিকের নিকট থেকে ক্রয়ের মাধ্যমে মুক্ত করার লক্ষ্যে যাকাতের
অর্থ প্রদান করা যায়।

অনুরূপভাবে বর্তমানে কোন মুসলিম ব্যক্তি
অমুসলিমদের হাতে বন্দি হলে সে ব্যক্তিও এই খাতের অন্তর্ভুক্ত হবে।
দাসদেরকে দাসত্ব বন্ধন থেকে মুক্ত করার জন্য যাকাতের অর্থ ব্যয় করা দু’ভাবে হতে পারে।
এক, যে দাস তার মালিকের সাথে এ মর্মে চুক্তি করেছে যে, সে একটা বিশেষ পরিমাণ অর্থ আদায় করলে মালিক তাকে দাসত্ব মুক্ত করে দেবে। তাকে দাসত্ব মুক্তির এ মূল্য আদায় করতে যাকাত থেকে সাহায্য করা যায়।
দুই, যাকাতের অর্থে দাস কিনে তাকে মুক্ত করে দেয়া। এর মধ্যে প্রথমটির ব্যাপারে সকল ফকীহ একমত।


(৬) ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিঃ
===========
ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে তার ঋণ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে যাকাত
প্রদান করা যাবে।
অর্থাৎ এমন ধরনের ঋণগ্রস্ত, যারা নিজেদের সমস্ত ঋণ আদায় করে দিলে তাদের কাছে নেসাবের চাইতে কম পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট থাকে। তারা অর্থ উপার্জনকারী হোক বা বেকার, আবার সাধারণ্যে তাদের ফকীর মনে করা হোক বা ধনী। উভয় অবস্থায় যাকাতের খাত থেকে তাদেরকে সাহায্য করা যেতে পারে। কিন্তু বেশ কিছু সংখ্যক ফকীহ এ মত পোষণ করেছেন যে, অসৎকাজে ও অমিতব্যয়িতা করে যারা নিজেদের টাকা পয়সা উড়িয়ে দিয়ে ঋণের ভারে ডুবে মরছে, তাওবা না করা পর্যন্ত তাদের সাহায্য করা যাবে না।

(৭) আল্লাহর রাস্তায়ঃ
=============
আল্লাহর দ্বীনকে সমুন্নত করার লক্ষ্যে যে কোন ধরনের প্রচেষ্টা
‘ফী সাবীলিল্লাহ’ বা আল্লাহর রাস্তার অন্তর্ভুক্ত। জিহাদ,
দ্বীনী ইলম অর্জনের যাবতীয় পথ এবং দ্বীন প্রচারের যাবতীয়
মাধ্যম এ খাতের অন্তর্ভুক্ত।

(৮) মুসাফিরঃ
=========
সফরে গিয়ে যার পাথেয় শেষ হয়ে গেছে সে ব্যক্তিকে যাকাতের অর্থ
প্রদান করে বাড়ী পর্যন্ত পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে যাকাতের
অর্থ দান করা যাবে।
এক্ষেত্রে উক্ত মুসাফির সম্পদশালী হলেও তাকে যাকাত প্রদান
করা যাবে।
মুসাফির তার নিজের গৃহে ধনী হলেও সফরের মধ্যে সে যদি সাহায্যের মুখাপেক্ষী হয়ে তাহলে যাকাতের খাত থেকে সাহায্য করা যাবে। এখানে কোন কোন ফকীহ শর্ত আরোপ করেছেন, অসৎকাজ করা যার সফরের উদ্দেশ্য নয় কেবল মাত্র সেই ব্যক্তিই এ আয়াতের প্রেক্ষিতে সাহায্য লাভের অধিকারী হবে।

No comments

Auto Scroll Stop Scroll